ঘূর্ণিঝড় ইয়াস: বরিশাল বিভাগে ৯৫৭৯ লাখ টাকার মাছের ক্ষয়-ক্ষতি

মনিরুজ্জামান :

ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে বরিশাল বিভাগের ৪০ টি উপজেলায় ৯৫৭৮.৫৯ লাখ টাকার মৎস্য সম্পদের ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে ১৮৩৭২
টি পুকুর দিঘি,খামার ও ঘেরের ৩২২৭.৫১ মে. টন বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ভেসে যায় যার আনুমানিক মূল্য ৭৭৩০.১৫ লাখ টাকা এবং ১০০৩.৭ লাখ টাকার অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বরুিশাল বিভাগর মৎস্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক এর দপ্তর সূত্রে জানা যায়, ঝড়ে সৃষ্ট জোঁয়ারে বিভাগের ৪০ টি উপজেলায় ১৮৩৭১ টি পুকুর, দিঘি,খামার ও ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার আয়তন ৫৮১৫৮. ১হেক্টর।

এতে ভেসে গেছে ৩০৪৪.৫ মেট্রিক টন ফিন ফিস ও চিংড়ি মাছ এবং ১৯৪ ৯৯ লাখ পোনা ও পিএল মাছের পোনা।
ক্ষতিগ্রস্ত পুকুর,দিঘি, খামার ও ঘেরের মধ্যে বরিশাল জেলায়
১ হাজার ৭ শত ৪৮টি পুকুর থেকে বিভিন্ন প্রজাতির ১৬০০.৭৫ লাখ টাকার মাছ, ঝালকাঠির ২ হাজার ১ শত ২৯ টি থেকে ২৪৬.৮৭ লাখ টাকার, পিরোজপুর জেলার ২ হাজার ৫ শত ৭ টি থেকে ৫ শত ৪৫ লাখ,পটুয়াখালির ৭ হাজার ৫ শত ৮৫ টি থেকে ৩৯৩৬৩.১ লাখ,ভোলার ২ হাজার ৯ শত ৮৮ টি থেকে ১১৯০ লাখ এবং বরগুনার ১ হাজার ৪ শত ৪ টি থেকে ১১৮.৯১ লাখ টাকার পরিমান ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া ৬ জেলায় অবকাঠামো গত ক্ষতির পরিমাণ ১০০৩.৭ লাখ টাকা।ক্ষতিগ্রস্থ জলযানের সংখ্যা ৫০২ টি যার মূল্য৭৪৮ লাখ টাকা।

এদিকে ঝড়ে পুকুর ও ঘেরের মাছ হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন চাষিরা। এদের কেউ আবার ধার-দেনা বা ঋণ নিয়ে পুকুরে মাছের চাষ শুরু করেছিলেন। কিন্তু ঝড়ের কারণে তাদের মাথায় হাত পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত অনেকেই ঘুরে দাঁড়াতে পারছেন না।

এ ব্যাপারে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এসএম আজহারুল ইসলাম জানান, ক্ষয়-ক্ষতির তালিকা আমরা ঊধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছি, সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সহায়তা এলে আমরা তা বিতরণ করবো।
বরিশাল বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক এ. এফ. এম নাজমুস সালেহীন জানান,ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যচাষীদের পাশে মৎস্য বিভাগের সরব উপস্থিতি রয়েছে। তাঁদের ক্ষয় ক্ষতিপূরণে আমরা টেকনিক্যাল সাপোর্ট দিয়ে যাচ্ছি।সহায়তা বরাদ্দ পেলে ক্ষতিগ্রস্থদের মধ্যে বন্টন করা হবে ।