ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে অবাধে বাগদা রেণু শিকার

মনিরুজ্জামান:
নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে অবাধে শিকার করছে বাগদা এবং গলদা রেনু পোনা । কিছু অসাধু জেলে,রেণু ক্রেতা মহাজন কিংবা দাদনদারের সহযোগিতায় নির্বিচারে এসব রেনু শিকারে নেমেছে তারা । জেলেরা ১টি চিংড়ি পোনার জন্য নষ্ট করছেন শত-শত প্রজাতির মাছ। ফলে মেঘনায় দিন দিন বিলুপ্ত হতে চলছে দেশীয় প্রজাতির লাখ লাখ মাছ। নষ্ট হচ্ছে জীব বৈচিত্র। বিভাগের তেমন কোন অভিযান না থাকায় শিকারিরা হয়ে উঠেছে বেপরোয়া। প্রভাবশালী মহল এর সহযোগিতায় দিন দুপুরে শিকার করা এসব রেণু পোনা স্থল ও নৌ পথে বরিশাল, পটুয়াখালী হয়ে চলে যাচ্ছে যশোর, খুলনা সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ৷
জানা যায়,আষাঢ় মাস জুড়ে প্রাকৃতিকভাবে ভোলার নদীগুলোতে বাগদা ও গলদা চিংড়ির রেণু পোনার প্রজনন হয়। এসময় রেনু শিকারে রয়েছে সরকারি নিষেধাজ্ঞা। কিন্তু সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মশারি জাল দিয়ে রেণু শিকার করছে জেলেরা। বেশি রেনু উঠলে বেশী টাকা রোজগার এমন আশায় বাগদা শিকারের প্রতিযোগিতা চলছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মেঘনা- –তেঁতুলিয়া নদীর বিভিন্ন এলাকা জুড়ে চলছে গলদা-বাগদা চিংড়ির পোনা ধরার মহাউৎসব। জেলে, শিশু ও বৃদ্ধ সবাই মশারি এবং ঠেলা জাল নিয়ে চিংড়ি রেণু আহরণ করছে। রেণু পোনা ধরতে মশারি দিয়ে বিশেষ জাল তৈরি করে পোনা ধরা হচ্ছে। পরে নিখুতভাবে বাছাইয়ের করে গলদা, বাগদার রেনু পোনা গুলো আলাদা পাত্রে রেখে জালে ধরা পড়া বাকি সব ফেলে দেয় মাটির উপরে ৷ এতে নষ্ট হয়ে যায় হাজারো প্রজাতির রেণু পোনা ও জীব বৈচিত্র।
সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান,একজন জেলে প্রতিদিন ৫০০ থেকে সর্বোচ্চ ১৫০০ পোনা ধরতে পারে। প্রতিটি পোনা তাঁরা আড়তদারের কাছে ১ টাকা দরে বিক্রি করেন। আড়তদার চিংড়ি ঘের-মালিকদের কাছে প্রতিটি পোনা সাড়ে তিন থেকে চার টাকা দরে বিক্রি করেন। মহাজনরা অগ্রিম ঋণ দেয়ায় পোনা শিকারে উৎসাহী হয়ে উঠছে জেলেরা। রেনু পোনা শিকারী কয়েকজন বলেন, চিংড়ির পোনা ধরা যে অবৈধ, তা তারা জানেন। কিন্তু বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকায় নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও পেটের দায়ে বাধ্য হয়েই রেনু পোনা শিকার করতে হচ্ছে তাদের।

কয়েকজন রেনু ব্যবসায়ী জানান, মেঘনার গলদা চিংড়ির পোনা অল্প সময়ে বড় হয়ে যায়। এ জন্য যশোর, খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরাসহ দেশের চিংড়ি ঘের মালিকদের কাছে মেঘনার পোনার কদর বেশি। জেলেদের কাছ থেকে তারা রেনু পোনা কিনে গলদা ও বাগদা চিংড়ির ঘের মালিকদের কাছে বিক্রি করেন। এ ব্যবসায় তাদের লাখ লাখ টাকা বিনিয়োগ রয়েছে। এর সঙ্গে এই এলাকার মানুষের জীবন-জীবিকা জড়িত। তাই তারা পোনা না ধরে থাকতে পারে না। প্রতি মৌসুমে এখানে শতাধিক কোটি টাকার গলদা চিংড়ির পোনা বিক্রি হয়।
বোরহানউদ্দিন উপজেলা মৎস কর্মকর্তা আলী আহম্মদ আকন্দ কে উল্লেখিত বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা মৎস্য কর্মকর্তার সাথে যোগযোগ করতে বলেন।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এসএম আজহারুল ইসলাম বলেন,অভিযান চলবে।