ভোলায় প্রধান শিক্ষক চাকরি থেকে বরখাস্ত

ভোলা প্রতিনিধি ঃ
তথ্য গোপন করে জালিয়াতির মাধ্যমে চাকরি গ্রহণ, অর্থ আত্মসাৎ ও পেশাগত অসদাচরণের কারণে ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার প্রধান শিক্ষক আবুল কাসেমকে ৮ জুন চাকুরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি। বরখাস্তকৃত প্রধান শিক্ষক আবুল কাশেম ( ইনডেক্স ৫১৮৬০২)স্থানীয় পশ্চিম কাচিয়া রতনপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক । শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক প্রফেসর মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে জানা যায়, কাম্য যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা না থাকার পরও নিয়োগপত্র ইস্যুর ৬ বছর পর তিনি বিধিবহির্ভূতভাবে যোগদান করেন।
একই সূত্রে জানা যায়, নিয়োগের ক্ষেত্রে জাতীয় ও আঞ্চলিক পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের বিধান থাকলেও শুধুমাত্র একটি স্থানীয় পত্রিকায় ৫.১.২০০৪ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। একই বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি নিয়োগ পরীক্ষা গ্রহণ করা হয় । পরের দিন অর্থাৎ ১২ ফেব্রুয়ারি নিয়োগ পত্র ইস্যু করা হয়। নিয়োগ পত্র ইস্যু করার ৬ বছর পর ১.৫.২০১০ খ্রিঃ ওই শিক্ষক বিধিবহির্ভূতভাবে যোগদান করেন। এছাড়া প্রধান শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে কাম্য যোগ্যতা স্নাতক দ্বিতীয় শ্রেণি সহ বিএড ও ১২ বছরের প্রশাসনিক / শিক্ষকতার অভিজ্ঞতার বাধ্যবাধকতা থাকলেও বহিস্কৃত শিক্ষক আবুল কাশেম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ও নিয়োগ পরীক্ষার প্রায় ১০ বছর পর উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় হতে ২০১৪ সালে বিএড প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। একই সূত্র, আরো জানা যায় তার বাতিলযোগ্য আবেদনপত্রটি বাতিল না করে তাকে বিধিবহির্ভূতভাবে নিয়োগ দেয়া হয়। যার কারণে তিনি সরকারি বেতন ভাতা প্রাপ্য না হলো ও অবৈধভাবে ১২ লাখ ৮০ হাজার ৪৪০ টাকা সরকারি অর্থ অবৈধভাবে উত্তোলন করেন।সরকারি কোষাগারে উত্তোলিত ওই অর্থ ফেরত দেওয়ার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় নিরীক্ষা কমিটির সুপারিশ করেন ।
অন্যদিকে,৭. ৬.২০২১খ্রিঃ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির রেজুলেশন সূত্রে জানা যায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিরীক্ষা কমিটির প্রতিবেদনে অবৈধভাবে উত্তোলিত টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার বিষয়ে বলা,বিদ্যালয়ের আয়-ব্যয়ের হিসাব বিবরণী দাখিলের জন্য একাধিকবার চিঠি দেওয়া হলো তা অমান্য করা, একাধিক শিক্ষক এর সাথে নিয়োগ বাণিজ্য ও বিভিন্ন অভিযোগ থাকায় পরিচালনা কমিটির সর্বসম্মতিক্রম সিদ্ধান্তে প্রধান শিক্ষক আবুল কাসেমকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
বহিস্কৃত প্রধান শিক্ষক আবুল কাশেম উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে নিরব থাকেন। তিনি বলেন সভাপতির সাথে যে কোন বিষয় আমার দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে। যা দ্রুত সমাধান হবে।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও সাবেক উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আহম্মেদ উল্লাহ জানান,শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিরীক্ষা কমিটি রিপোর্ট, অর্থ আত্মসাৎ, নিয়োগ বাণিজ্য সহ বিভিন্ন অভিযোগে পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্ত তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সাথে ৩ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। যারা ২১ কর্ম দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন পেশ করবেন । রিপোর্ট পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।