বোরহানউদ্দিনে ঘরে ঘরে জ্বর সর্দির রোগি,করোনা টেস্টে অনিহা

মনিরুজ্জামান,ভোলা
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় ঘরে ঘরে জ্বর,সর্দি রোগি। অনেকের কাশি, গলাব্যথা ও শ্বাসকষ্টের লক্ষণ আছে। এমন রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এসব উপসর্গ দেখা দিলেও অনেকে হাসপাতালে আসছেন না। অনেকে তথ্য গোপন রেখে গ্রাম্য পল্লী চিকিৎসক থেকে ওষুধ নিয়ে সেবন করছেন। যারা ্ও হাসপাতালে আসছেন তারা হোম কোয়ারেন্টিন ও বাড়ি লকডাউনের ভয়ে করোনা পরীক্ষা করতে চান না ।
বোরহানউদ্দিন হাসপাতাল স‚ত্র জানায়, ২৯ জুলাই এ উপজেলায় ৫৫ জনের নমুনা পরীক্ষায় ২৫ জনের করোনা পজেটিভ আসে। প্রতিদিন বর্হিবিভাগের প্রায় ২ শতাধিক রোগি আসে। যাদের অনেকের মধ্যে করোনা উপসর্গ বিরাজমান। যারা করোনা টেস্টে নমুনা দিতে অগ্রহী নয়।
সরজমিনে গিয়ে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার প্রতিটি গ্রামের অধিকাংশ ঘরে জ্বরে আক্রান্ত রোগী আছে। গ্রামের অনেকেই জানান ,করোনা শনাক্ত হলে সামাজিকভাবে হেয় হওয়ার ভয়ে করোনা টেস্টে হাসপাতালে যাচ্ছেন না । এতে করোনা সংক্রমণ বহুগুণে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। করোনা মহামারির তৃতীয় ঢেউয়ে সারা দেশে যখন সর্বাত্মক লকডাউন তখন এসব উপসর্গ যুক্ত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বেড়ে যাওয়ায় উপজেলা জুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গিয়ে ১০-১২টি ওষুধের দোকানের বিক্রেতাদের সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা হয়। তারা জানান,সর্দি-কাশি-জ্বরের ওষুধ বিক্রি ব্যাপক বেড়ে গেছে। যা অবস্থা,তাতে মনে হয় এখন ঘরে ঘরে জ্বর। এ ধরনের বেশির ভাগ রোগী বা রোগীর স্বজন চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে তাদের কাছে এসে উপসর্গের কথা বলে ওষুধ নিয়ে যাচ্ছেন। এর মধ্যে প্যারাসিটামল জাতীয় নাপা,নাপা-এক্সটা,হিস্টাসিন ও দামি অ্যান্টিবায়োটিক ঔষধ বেশি করে নিচ্ছেন ক্রেতারা। এদিকে বিভিন্ন ঔষধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিরা জানান, বর্তমান সময়ে এলাকায় সর্দি, কাশি ও জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ। এর থেকে মুক্তি পেতে ডাক্তারের পরামর্শ না নিয়ে বেশিরভাগ ফার্মেসিতে গিয়ে সমস্যার কথা বলে ঔষধ কিনে নিচ্ছে। ফলে সর্দি, কাশি ও জ্বর সংশ্লিষ্ট ঔষধের চাহিদা বেড়েছে। কয়েকজন ফার্মেসীর মালিক জানান,প্যারাসিটামল জাতীয় ঔষধের সরবরাহে ঘাটতি রয়েছে।
বোরহানউদ্দিনের কুলসুম রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী (এসএসসি পরীক্ষার্থী) সায়মা আফরোজ বলেন আমাদের গ্রামের অনেকেই এ বিষয়ে তেমন কিছু জানেন না । তাদেরকে যদি আমরা প্রচার যেমন লিফলেট বিতরণ,মাইকিং ইত্যাদির মাধ্যমে বুঝাতে পারি তাহলে তারা সচেতন হবে। এ শিক্ষার্থী বলেন এই বিষয়ে প্রশাসনকে কঠোর ভ‚মিকা রাখতে হবে।
বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এর মেডিকেল অফিসার ডা: মশিউর রহমহান সাদী বলেন, হাসপাতালে আসা রোগিদের অধিকাংশ জ্বর এবং ঠান্ডা রোগী । আমরা বলার পরে ও তারা কোভিড -১৯ টেস্ট করাচ্ছে না।এমনকি অনেকেই মাক্স ব্যবহার করেন না। আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার সাজ্জাদ হোসেন বলেন,সময়টা ভালো যাচ্ছে না। যারা জ্বর, সর্দি কাশিতে আক্রান্ত হচ্ছেন তাদের হোম কোয়ারেন্টিনে থাকা উচিত।সকলকে মাস্ক পড়ার জন্য তিনি অনুরোধ করেন।
বোরহানউদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুর রহমান বলেন, সরকারি নিদ্ধেষনা লকডাউন নিশ্চিতে উপজেলা প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। প্রশাসন থেকে করোনা আক্রান্তদের বাড়ি লকডাউন করা ও তাদের কে শুকনা খাবার ও ফল সরবরাহ করা হচ্ছে। এ সংকটময় পরিস্থিতিতে খাদ্য সহায়তার জন্য ৩৩৩ ফোন করার আহবান জানান।