জয়া খালে বাঁশের সাঁকো!

বিশেষ প্রতিবেদক : তেতুলিয়া নদী। ভোলা জেলার ইলিশের স্বাদ পেতে এ নদীর মাছের কদরই আলাদা! বোরহানউদ্দিন উপজেলার এ নদীর সবচেয়ে বেশি মাছ ধরার নৌকার অবস্থান জয়া খালে। জোয়ার ভাটার পানি প্রতিদিন দুবার করে এ খালে আসাযাওয়া করে। খাল ধরে কিছুদূর আগালেই একটি সাঁকো দেখা যায়। একপারে মূল জয়া গ্রাম এবং অপরপাড়ে জয়া শিকদারের চর। সাঁকোর উপর দিয়ে পারাপার করে অন্তত ছয় থেকে সাত হাজার মানুষ। বিচ্ছিন্ন অংশটিতে গংগাপুর ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের অংশবিশেষ এবং ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ড। প্রায় ৫ হাজার মানুষের খাল পার হয়ে এপারে আসার একমাত্র অবলম্বন এ সাঁকোটি। অপরপাড়ে প্রচুর কৃষি জমি। ওপারে কোনো বিদ্যালয় না থাকায় স্কুল কলেজগামী ছাত্র-ছাত্রীরা অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হয়। ছোট বাচ্চা নিয়ে একজন মাকে অত্যন্ত কষ্ট করে পার হতে দেখা যায়। অভ্যস্থতার কারণে কমবয়সী ও যুবকদের স্বাভাবিকভাবে পার হতে দেখা গেলেও একটুপর একজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে অত্যন্ত কষ্ট করে পার হতে দেখা গেল। এলাকার মেম্বার আব্দুর রশিদ নসু জানান কত মানুষের যে এখান থেকে পড়ে হাত পা ভেঙেছে তার হিসাব নেই। এলাকার মানুষ জানান বেশ কয়েক বছর আগে এখানে একটি ব্রীজ ছিল কিন্তু তা ভাঙার পর আর নতুন করে কোনো ব্রীজ হয়নি। তাই এ জায়গার নামই হয়ে গেছে ভাঙা ব্রীজ মোড়। সরেজমিনে ভাঙা ব্রীজের ভাঙা অংশ দেখা যায়। স্থানীয়রা জানান, কিছুদিন আগে উপজেলা নির্বাহী অফিসার খালেদা খাতুন রেখা স্থানটি পরিদর্শন করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন। অপরপাড়ে অবস্থিত বোরহানউদ্দিন উপজেলার দৃষ্টিনন্দন তেতুলিয়া রিভার ইকোপার্কটি এই খালের ওপারে হওয়ায় যোগাযোগের অভাবের দরুণ পার্কটিতে বিনোদনপ্রেমীরা আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও যেতে পারেনা। যার কারণে সরকারের একটি মহতি উদ্যোগ ভেস্তে যাচ্ছে। খালটির উপর একটি সেতুই পারে এ এলাকার অনেক পরিবর্তন আনতে ও মানুষের কষ্ট লাঘব করতে।