‘বীর নিবাস’ পেয়ে খুশি অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধারা


মনিরুজ্জামান, 

 

অসচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আবাসন নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ভোলার বোরহানউদ্দিনের ১১  অসচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবার পাচ্ছেন বীর নিবাস।

বুধবার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে সকাল ১০টায় ভার্চুয়ালি এই কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।

 

পরে ভোলা-২আসনের সংসদ সদস্য আলী আজম মুকুল ওই ১১ জন মুক্তিযোদ্ধাদের নিকট বীব নিবাসের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হস্তান্তর করেন। এ সময় তিনি বলেন,প্রধানমন্ত্রীর সততা,আন্তরিকতা ও দুরদর্শি নেতৃত্বের কারণে আজ দেশ স্মার্ট বাংলাদেশে পরিনত হচ্ছে।

 বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্ত্রী ও সন্তানদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৪ লাখ টাকা করে এক একটি পাকা ঘর তৈরি করে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন।

 

এর অংশ হিসেবেই বোরহানউদ্দিনের ১১ জন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে ১ম পর্যায়ে সরকারি এসব ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

 

বীর নিবাস গ্রহণকারি লাল মিয়া, আব্দুল খালেক,মমতাজ বেগম,মীর আনছার, সালম খাতুন,মোস্তাফিজুর রহমান  বলেন,  কখনো স্বপ্নেও ভাবেননি জীবনের শেষ বয়সে এতটা ভালোভাবে কাটাতে পারবো। একটি ঘরের বড়ই প্রয়োজন ছিল। সেটিও পেয়েছেন বর্তমান সরকারের কল্যাণে। মাসে  মাসে ভাতা  ভাতা পাচ্ছেন।  ঈদে পেয়েছেন বোনাস। কখনো এসব পাবেন বলে কল্পনাও করেননি।

  মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার আহমেদ উল্লাহ,মুক্তিযুদ্ধা জুলফিকার আলী  বলেন,  সরকার যে ঘরগুলো দিচ্ছে তা অবশ্যই ভালো কাজ। এতে করে অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধারা তাদের মাথাগোঁজার ঠাই পাবেন এবং পরিবার পরিজন নিয়ে সুখে শান্তিতে বসবাস করতে পারবেন।

 

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ সোহেল হোসেন বলেন,বোরহানউদ্দিন উপজেলায় ৩৯ টি বীরনিবাস নির্মাণের কাজ চলমান।যার মধ্যে প্রথম ধাপে ১১টি ঘর আজ বুধবার বিতরণ করা হয়েছে।প্রত্যেকটি  ঘরে দুই বেডরুম, একটি কিচেন ও একটি ডাইনিং, দুটি বাথরুম এবং একটি বারান্দা রয়েছে।  এক-একটি বাড়ির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১৪ লাখ ১০ হাজার ৩৮২টাকা।

 

বোরহানউদ্দিন উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা নওরীন হক বলেন,“ বীর মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। দেশের জন্য যাঁরা যুদ্ধ করেছেন, সেই বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অনেকেই এখনও অসচ্ছল। অনেকের থাকার ভালো ব্যবস্থা নেই। এজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ‘বীর নিবাস’ নামক পাকা ঘর নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এসব ঘর  পেয়ে মুক্তিযোদ্ধারা ভীষণ উপকৃত হচ্ছেন। এ প্রকল্প মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে সাড়া ফেলেছে।

 

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল কালাম,সহকারি কমিশনার ভূমি মুন্নি ইসলাম,বীর মুক্তিযোদ্ধাগন,বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যানবৃন্দ,বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তর প্রধানগন।