চলে গেলেন জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান মুক্তিযোদ্ধা সিদ্দিকুর রহমান

স্টাফ রিপোর্টার :

ভোলার মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, মুক্তিযুদ্ধের ভোলা জেলার কমান্ডার  সাবেক এমপি সিদ্দিকুর রহমান ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন) ৷ মৃত্যূকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৬ বছর ৷

শুক্রবার সকাল ১১ টায় ঢাকায় তার নিজ বাসায় বার্ধক্যজনিত কারণে ইন্তেকাল করেন । তার গ্রামের বাড়ী দেউলা ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের বড় পাতা গ্রামে ৷ 
সিদ্দিকুর রহমানের পুত্রবধূ মনিহার আকতার  ও সাবেক উপজেলা মুক্তিযোদ্বা কমান্ডার নাজিম উদ্দিন মাতাব্বর  জানান, মৃত্যুকালে চার ছেলে, চার মেয়ে এবং নাতী নাতনীসহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন ৷জানা যায়,১৯৭১ সালে বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে সিদ্দিকুর রহমান তাতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। ৬ মে ১৯৭১ সালে পাক বাহিনী ভোলার ওয়াপদাকে মূল ক্যাম্প করে। সেখানে হত্যাসহ ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দিচ্ছিল পাকবাহিনী। সেনাবাহিনীতে কর্মরত সিদ্দিকুর পটুয়াখালী, খুলনা ও বরিশালে যুদ্ধ করেন। পরবর্তীতে ৯ নম্বার সেক্টর কমান্ডার মেজর জলিল তাকে সেখানে যুদ্ধ পরিচালনার জন্য পাঠান।ভোলা হানাদার মুক্তকরনে বোরহানউদ্দিনে ২২ অক্টোরব দেউলার যুদ্ধ এবং ২৭ অক্টোবর টনির হাট(ঘুইংঘার হাটের) যুদ্ধ সবচেয়ে ভয়াবহ যুদ্ধ হিসেবে স্বীকৃত। দেউলার যুদ্ধে হাই কমান্ড ছিদ্দিকের  নেতৃত্বে মুক্তিবাহিনী দখদার মুক্ত করে এ অঞ্চল। ওই যুদ্ধে ৬৪ পাক হানাদার নিহত হয়।১০ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে ভোলা মুক্ত হয়।মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে বীর দর্পে যুদ্ধ করে জয়ী হওয়ায় বাঘা ছিদ্দিক নামে এলাকায় পরিচিত লাভ করেন ৷ 
তিনি  ১৯৭৯ সালের দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে  তৎকালীন বাকেরগঞ্জ-৪ (বরিশাল-৪) এবং ১৯৮৮ সালের চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোলা-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।