বোরহানউদ্দিন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৮ জন ডেঙ্গু রোগী, সনাক্ত শতাধিক

মনিরুজ্জামান :

ভোলার বোরহানউদ্দিনে  বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। গত ৩ দিনে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয় প্রায় শতাধিক রোগী সনাক্ত হয়। উপজেলার ৫০ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছে মাত্র ২৮ জন। ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে পজিটিভ সনাক্ত হলে অনেকে উপজেলা সদরে ভর্তি না হয়ে অন্যত্র চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানা যায়।

শনিবার বিকালে (১৫ জুলাই) , বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স  পুরুষ  ও মহিলা আন্ত:বিভাগের কর্তব্যরত নার্সগন জানান, ১৩ জুন থেকে ১৫ জুলাই এই ৩ দিনেএখানে ২৮ জন পুরুষ-মহিলা, ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তারা জানান, আক্রান্ত ডেঙ্গু রোগির সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।
বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার তারেক জানান,বৃহস্পতি,শুক্র,শনিবার অর্থাৎ ১৩ জুলাই থেকে ১৫ জুলাই ভর্তি রোগির সংখ্যা ২৮ জন।তিনি সকলকে সাশ্রয়ী মূল্যে হাসপাতালে ডেঙ্গু টেস্ট করানোর আহবান জানান। তিনি আরও জানান ডেঙ্গু সনাক্তকরণের ৩টি টেস্ট হাসপাতালে করা হয়।

বোরহানউদ্দিন নিউ ইসলামিয়া ডায়াগনস্টিক সেন্টার এর ম্যানেজার জানান,তাঁর এখানে বৃহস্পতি বার ১৮ জন,শুক্রবার ১১,শনিবার ৪ জন পজিটিভ রোগি পাওয়া যায়। ইবনে সিনার সোহাগ হাং জানায় ওই ৩ দিনে তাঁরা ১০ জন, বোরহানউদ্দিন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের হাসান বলেন ৪৫ জন,নিউ জনসেবার লোকমান বলেন,৫ জন ডেঙ্গু পজেটিভ পাওয়া যায়।
কাচিয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের রফিজল জানান তাঁর স্ত্রী সারমিনের , গত কয়েকদিন যাবত জ্বর, শরীর ব্যাথা আর বমি বমি ভাব ছিল। বুধবার( ১২ জুলাই) বেশি জ্বর ও শরীর ব্যাথা হয়। ডাক্তার দেখিয়ে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ৪শত টাকায় রক্ত পরীক্ষা করে জানতে পারি ডেঙ্গু জ্বর হয়েছে। বৃহস্পতিবার হাসপাতালে ভর্তি হই।  বড় মানিকা ইউনিয়নের মোল্লারহাট গ্রামের আক্রান্ত আরজু বেগমের মা বিবি হাজেরা জানান, পরশু দিন সন্ধ্যায় ( ১৩ জুলাই) হাসপাতালে ভর্তি হই। কুতুবা ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের রোগি সমমেহের এর ভাবী রিনা বেগম জানান, মাথা ব্যাথা,জ্বর,নিয়ে নিয়ে শুক্রবার ভর্তি হই। পক্ষিয়া ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের রোগি মিরাজের মা,রোকেয়া বেগম বলেন,তাঁর ছেলে ৪দিন যাবত জ্বর,গায়ে ব্যাথা। প্রথমে ফার্মেসি থেকে ঔষধ খাওয়ান।ভালো না হওয়ার শনিবার হাসপাতালের ভর্তি করার। টবগী ইউনিয়ের ৫নং ওয়ার্ডের রোগি ফখরুল আলম( ৫৫)। তার স্ত্রী ফরিদা বেগম জানান,১০/১২ যাবত জ্বর জ্বর। বাজার থেকে ঔষধ কিনে খাইছে।জ্বর ভালো হয়না।শরীর দুর্বল হয়ে গেছে।ব্যাথায় লড়তে পারে না। তাই শুক্রবার ভর্তি করাই।
অন্যদিকে তজুমুদ্দিন উপজেলার কমলা রানী(৬৫)। জ্বরে আক্রান্ত। একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে টেস্ট করান।পজেটিভ হলে ভর্তি না হয়ে, ওখানে চিকিৎসা গ্রহণ করেন।
উম্মে হাবিবা নামক শিক্ষিকা জানান,তাঁর ছোট মাহফুজ এর ডেঙ্গু পজেটিভ হলে সাথে সাথে ঢাকা চলে আসেন।বর্তমানে ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।অবস্থা উন্নতির দিকে।

।রোগীরা জানাচ্ছেন তাঁরা প্রাথমিক পর্যায়ে ডেঙ্গুর বিষয়টি বুঝতে না পারলেও ধীরে ধীরে সমস্যা প্রবল হলে বুজতে পারেন।
পল্লী চিকিৎসক মো: অলিউল্লাহ,কামাল, সৈয়দ মেডিকেল হলের রাসেল,কামাল মেডিকেল হলের আবুল কালাম, সেবা মেডিকেল হলের মানিক,দেউলা মেডিকেল হলের মনির বলেন, জ্বর নিয়ে আসা রোগিরা বলেন, শরীরে অল্প অল্প ব্যাথা আর গায়ে গায়ে জ্বর আমাদেরকে ঔষধ দিন।তখন আমরা ডেঙ্গু টেস্টের কথা বললে,অধিকাংশ টেস্ট করতে অনিহা প্রকাশ করে।তারা অল্প ঔষধ নিয়ে চলে যায়। মফস্বল এলাকার অধিকাংশ মানুষ, পল্লী চিকিৎসকদের কাছ থেকে ঔষধ কিনে চলে যান।

বোরহানউদ্দিন উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার নিরুপম সরকার সোহাগ বলেন, বর্তমানে ডেঙ্গু রোগি বেশি। ভর্তির হার কম বিষয়ে বলেন,ডেঙ্গু সংশ্লিষ্ট যে শারীরিক জটিলতা কিংবা প্লাটিলেটগত সমস্যা না হলে এরা হাসপাতালে আসে না।আবার জটিল রোগীদের কে ভোলা প্রেরণ করা হয়। মানুষের মধ্যে সচেতনতার অভাব। মানুষ হাসপাতালে শুধু ফ্রি ওষুধ নিতে আসে।